রাউজান-রাঙ্গুনিয়ায় ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ তারা

একাধারে ৩বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাউজান উপজেলাকে পিংক সিটিতে রূপান্তর করছেন এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। পাশাপাশি গত ৯ বছরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করে এলাকায় জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন ড. হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) সংসদীয় আসনে এই দুই প্রভাবশালী প্রার্থীকেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন ভোটাররা।

রাউজান আসনে সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মো. ওসমান গনি চৌধুরীসহ ৪ জন মনোনয়ন ফরম নেন।

রাঙ্গুনিয়া আসনে (বোয়ালখালী আংশিক সহ) বর্তমান সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ ছাড়া বিএমএ নেতা ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ওসমান গণি চৌধুরী, ডা. কাজী মো. ইউনুছসহ ৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

রাউজানের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ২০০১ সাল, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সংসদ সদস্য হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি  বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা আর কোন সরকারের আমলে হয়নি। ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, পৌরসভা ভবন, ফায়ার স্টেশন, ডাকবাংলো ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, থানা ভবন, মহাকবি নবীন চন্দ্র সেন কমপ্লেক্স ভবন, ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, উপজেলা সদর, নোয়াপাড়া ও পশ্চিম গুজরা ভূমি অফিস, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, নোয়াপাড়া শেখ কামাল অডিটোরিয়াম কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ফকির তকিয়া এলাকায় পিংক সিটি, পাহাড়তলী বদুপাড়া এলাকায় পিংক সিটি ২, দক্ষিণ সর্তায় কারিগরী কলেজ, রাউজান হাইওয়ে থানা ভবন নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, সড়কের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক প্রশস্থকরণ, হালদা সেতুসহ ৪টি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে রাউজানের পাহাড়তলীতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পর্যন্ত রেললাইন, পূর্ব রাউজান এলাকায় শিল্পনগরী, চুয়েটের পার্শ্বে আইটি পার্ক নির্মাণ, দক্ষিন রাউজানে আরও একটি থানা, দক্ষিণ রাউজানে একটি ফায়ার স্টেশন, খাদ্য গুদাম, দক্ষিণ সর্তায় পাওয়ার স্টেশন নির্মাণ  কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়ার ড. হাছান মাহমুদ ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছাড়াও সুনামের সঙ্গে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সাকা চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপির দুর্গে আঘাত হানেন ড. হাছান মাহমুদ। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও নির্বাচিত হন।

তিনি  বলেন, একটি মডেল উপজেলায় যে ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন রাঙ্গুনিয়ায় তার সবটুকু বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্স, পৌরসভা ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, নির্বাচন অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালি ভাণ্ডালজুড়ি সড়কের কাজ চলছে। পারুয়া ডিসি সড়ক, মরিয়মনগর ডিসি সড়ক, কালিন্দি রানী, ছৈয়দ আলী, আমান উল্লাহ ও রামগতিসহ আরো কয়েকটি সড়কের উন্নয়নে কয়েক কোটি টাকা  ব্যয় করা হয়েছে। উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ৬টি সেতু ও ছোট-বড় অসংখ্য কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ৩০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র ‘অ্যাভিয়ারি পার্ক’ তৈরি করা হয়েছে রাঙ্গুনিয়ায়। রাঙ্গুনিয়া কলেজকে সরকারি করা, এম শাহ আলম চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, পদুয়া ডিগ্রি কলেজ, হাসিনা জামান ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভাঙন থেকে রাঙ্গুনিয়াকে রক্ষা করতে ব্লক ও বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ, শতভাগ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি ১৫টি নতুন মসজিদ ও কয়েকটি মন্দির তৈরিসহ অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

LATEST NEWS